স্বর্ণের আন্তর্জাতিক বাজার ২০২৪ সাল জুড়ে ছিল ঊর্ধ্বমুখী। ২০১০ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল মূল্যবান ধাতুটির দাম। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্রয়, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহজ মুদ্রানীতি এ সময় দাম বাড়ায় ভূমিকা রেখেছে। খবর রয়টার্স।
স্পট মার্কেটে বছরের শেষদিন স্বর্ণের দাম বেড়েছে দশমিক ৪ শতাংশ। প্রতি আউন্সের মূল্য পৌঁছেছে ২ হাজার ৬১৫ ডলারে। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে দাম দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ২ হাজার ৬২৭ ডলার ৩০ সেন্টে পৌঁছেছে।
স্বতন্ত্র বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান উইজডমট্রির ম্যাক্রোইকোনমিক গবেষণা পরিচালক অনীকা গুপ্ত বলেন, ‘ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর চাহিদা, মুদ্রানীতির সহজীকরণ স্বর্ণের দাম বাড়ায় ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড কমোডিটি (ইটিসি) ছিল ২০২৪ সালে স্বর্ণের দাম উত্থানের মূল চালিকাশক্তি।’
অনীকা গুপ্ত জানান, ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি ও ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার কমানোর ধীরগতির মতো কিছু চাপ সত্ত্বেও স্বর্ণের দাম ২০২৫ সালে বাড়তে পারে।
উল্লেখ্য, ডিসেম্বরে ফেড তৃতীয়বারের মতো সুদহার কমিয়েছে। তবে ২০২৫ সালে সুদহার কমানোর এ গতি কিছুটা কমতে পারে। নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে প্রস্তুত। এর মধ্যে শুল্ক আরোপ, ডিরেগুলেশন ও কর সংশোধনী অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
যেকোনো অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় স্বর্ণ একটি নিরাপদ বিনিয়োগের আশ্রয় খাত হিসেবে বিবেচিত হয়। আর্থিক পরিষেবা কোম্পানি এক্সিনিটি গ্রুপের চিফ মার্কেট অ্যানালিস্ট হান ট্যান বলেন, ‘ট্রাম্পের শাসনামলে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লে ২০২৫ সালেও ঊর্ধ্বমুখী থাকতে পারে স্বর্ণের বাজার।’
গোল্ডম্যান স্যাকসের কমোডিটি স্ট্র্যাটেজিস্ট ডান স্ট্রুইভেন বলেন, ‘সামনের দিনগুলোয় স্বর্ণের দাম প্রতি ট্রয় আউন্স ৩ হাজার ডলারে পৌঁছতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চ চাহিদা ও ফেডের সুদহার কমানো এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।’
এদিকে গতকাল স্পট মার্কেটে রুপার দাম আউন্সপ্রতি ২৮ ডলার ৯৬ সেন্টে স্থিতিশীল ছিল। এদিন প্যালাডিয়ামের দাম বেড়েছে দশমিক ৮ শতাংশ। প্রতি আউন্সের মূল্য স্থির হয়েছে ৯১০ ডলার ৭০ সেন্টে। প্লাটিনামের দাম দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৯০৪ ডলার ৫৬ সেন্টে স্থির হয়েছে।
চলতি বছর স্বর্ণের দাম প্রায় ২৬ শতাংশ বেড়েছে। বার্ষিক ভিত্তিতে ৪০ বার রেকর্ড ভেঙেছে। শুধু তৃতীয় প্রান্তিকে মোট চাহিদা অতিক্রম করেছিল ১০ হাজার কোটি ডলার। গত ৩১ অক্টোবর মূল্যবান ধাতুটি আউন্সপ্রতি রেকর্ড ২ হাজার ৭৯০ ডলার ১৫ সেন্টে পৌঁছেছিল। ২০২০ সালের পর গত বছর রৌপ্যের দাম সবচেয়ে শক্তিশালী ধারায় ছিল। এ সময় ধাতুটির দাম বেড়েছে প্রায় ২২ শতাংশ। তবে বছর ভিত্তিতে প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম ৭ ও ১৭ শতাংশ কমেছে।